ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ এপ্রিল ২০২২
  1. International
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উৎসব
  6. খেলাধুলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম
  11. পরামর্শ
  12. প্রবাস
  13. ফরিদপুর
  14. বিনোদন
  15. বিয়ানীবাজার

‘বিএনপিকে নির্বাচনে আনার বিষয়টি ছিল কথার কথা’

Link Copied!

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়ার প্রসঙ্গটি এসেছিল নিছক কথার কথা হিসেবে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) ঢাকায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে গত ৪ এপ্রিল সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। সেই বৈঠকে তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

ওই খবর প্রকাশের পর তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত, আওয়ামী লীগের নয়। আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম বলেছিলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশের হস্তক্ষেপ চাওয়ার নীতি সরকারের নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী প্রসঙ্গে কী বলেছেন সে বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আর বিএনপি বলেছিল, বিএনপি নয়, সরকারই বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে।

সেদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘নানা বিষয়ে কথাবার্তার মাঝে আমরা বলেছি, ওরা (বিএনপি) নির্বাচনে আসে না। আমরা সব রকমের প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু আইনের মাধ্যমেই নির্বাচনে আসতে হবে। জনগণের কাছে যেতেই হবে।’

মোমেন বলেন, ‘তখন তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলল, কেন আসে না? আমি বললাম, আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) পারলে নিয়ে আসেন। কথাবার্তা এমনই ছিল। আমরা কোনো প্রস্তাব দিইনি। বলেছি, আপনারা পারলে আনেন। আমরা তো সবাইকে আনতে চাই।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (বিএনপি) নির্বাচনে আসে। দলের নাম করে আসে না। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের অনেকে জয়ী হয়েছে। আমি বললাম, আমার শহরের মেয়র সাহেব হলেন তাদের দলের (বিএনপি)। আর আমি হলাম সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমরা সব দলকেই চাই। সব দলই মোটামুটি আসে। কিন্তু একটা বড় দল (বিএনপি) যারা প্রকাশ্যে বলে তারা নির্বাচন করবে না। কেউ যদি ইচ্ছা করে না করতে চায়…! তারা (বিএনপি) জনগণকে ভয় পায়। কারণ তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসেনি। তাদের জন্ম সেনানিবাসে। তারা ওই ধরনের জিনিসই আশা করে। আমরা আনতে পারি না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্র্রীর নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদল) বলেন, কেন আনতে পারেন না? আমি বলেছি, আপনি চাইলে নিয়ে আসেন। দেখেন, পারেন কি না। সবার জন্য সুযোগ সমান। বাকি সব দল আসে। তখন তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলে, না আসলে তো আপনার কিছু করার নেই।’
নির্বাচন ইস্যুতে একই অবস্থান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একই অবস্থানে আছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের জন্ম। বাংলাদেশের প্রত্যেক লোক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এ জন্য আমাদের দেশে ৭২ শতাংশের নিচে ভোট পড়ে না। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার অনেক বেশি। আমার দেশে এটা উত্সব। আপনার দেশের (যুক্তরাষ্ট্রের) মতো না যে জোর করে লোককে ভোটকেন্দ্রে নিতে হয়।’

ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্র্রীর নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদল।

সরকারের অধীনেই নির্বাচন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘আপনার রাষ্ট্রদূত ছিলেন আমার শহরে। তিনি দেখেছেন নির্বাচন কত ভালো ছিল। অত্যন্ত স্বচ্ছ।’

অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এও বলেন, ‘এত বড় দেশ। কোথাও কোথাও কারচুপি হতে পারে। যেখানে কারচুপি হবে সেখানে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ লোকজনকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।’

ব্লিংকেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনার দেশে (যুক্তরাষ্ট্রে) যে সরকার থাকে সে-ই নির্বাচন করে। আমার দেশে সেই নিয়মেই হবে। এটা তো দুনিয়ার কোনো ব্যত্যয় না। এভাবেই হয়ে থাকে। এ নিয়ে আমাদের ভালো আলোচনা হয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা একই অবস্থানে আছি।’

দোষ শুধু বাংলাদেশের

মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনে অসংগতির বিষয়ে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা আপনাদের পত্রিকা, মিডিয়া দেখে কিছু তথ্য পায়। কিছু এনজিও-টেনজিও আছে ওদের নানা কিছু বলে। এনজিওরা সব সময় বাংলাদেশ খারাপ—এটি বলে। আর এক দল আছে তারা বিদেশে অ্যাসাইলাম চায়। সে জন্য খারাপ চিত্র দেয়। তারা এগুলো থেকে তৈরি করে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক বাঙালিও আমেরিকান দূতাবাসে চাকরি করেন, যাঁরা প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেন। তাঁরা শুধু খোঁজেন কোথায় দোষ। এটি আমাদের বাঙালির অভ্যাস—খালি দোষ বের করা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুনিয়ার সব দেশে অসুবিধা হয়। দোষটা খালি বাংলাদেশের দেয়। অন্য জায়গার দোষ আর বের করে না।’

ধর্মের ওপর আঘাত দেওয়ার চেষ্টা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন পুরোপুরি তথ্যনির্ভর নয়। সেখানে কিছু মতামত এসেছে। তারা আমাদের ধর্মের ওপর একটা আঘাত দিতে চায়। ওগুলো আমরা আগেই প্রত্যাখ্যান করেছি। এলজিবিটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে জাতিসংঘে আমরা অনেক দেন-দরবার করেছি। জাতিসংঘ গ্রহণ করেনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এটিকে (এলজিবিটি) মানবাধিকার বলে ধরে নিয়ে আসতে চায়। তাদের দেশে কোনো কোনো রাজ্যে এটি স্বীকৃত। রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত নয়। তারা জোর করে আমাদের ওপর চাপাতে চায়। কিছু দুষ্ট লোক সেখানে আছে। তারা তাদের মতামত দেয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) বলেছি, আমাদের মানবাধিকারের অগ্রাধিকার হলো কিভাবে দুবেলা খাবার দিতে পারি। খাদ্য, আশ্রয়, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিত্সা—এগুলো মানবাধিকার।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে মোমেন বলেন, অনুমতি না পেলে তাদের দেশে কোথাও বিক্ষোভ করা যায় না। এলাকা নির্দিষ্ট করে দেয়। ওই এলাকার মধ্যে থাকতে হবে। মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অবশ্যই নিয়ম-শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে। নিয়ম-শৃঙ্খলা না থাকলে নৈরাজ্য হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চেয়ে অনেক কঠোর আইন আছে যুক্তরাষ্ট্রের

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আইনে যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, আমরা তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। কোন জায়গায় দুর্বলতা দেখান।’ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) চেয়ে আপনাদের প্যাট্রিয়োটিক অ্যাক্ট আরো কঠিন আইন। তুলনা করলে আমার ডিএসএ একটি শান্তির আইন। তবে দুর্বলতা থাকলে আমরা অবশ্যই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেব। ’

র্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র

র্যাব ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, আপনার রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি সাহেব বলেছিলেন, র্যাব বাংলাদেশের এফবিআই। আর আপনি ওদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেন! জবাবে তিনি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বললেন, ‘এটি আমি দিইনি, এটি দেওয়া হয়েছে। তবে এর একটি প্রক্রিয়া আছে। আমরা এ নিয়ে কাজ করব।’

কত সময় লাগতে পারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে—সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটি বলতে পারব না। এটি তাদের ব্যাপার।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরীকে ২০০১ সালে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এরপর বাংলাদেশে যে সরকার এসেছিল তারা এটিকে আটকে দিয়েছে। রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের অনুরোধটি তারা দেখবে।

ইউক্রেন ইস্যুতে অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (ব্লিংকেন) বললেন, আপনাদের (বাংলাদেশের) নীতিগত অবস্থান আছে। প্রশংসাই করেছেন। আমি খুব সন্তুষ্ট হয়েছি।