ঢাকাসোমবার , ১১ এপ্রিল ২০২২
  1. International
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উৎসব
  6. খেলাধুলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম
  11. পরামর্শ
  12. প্রবাস
  13. ফরিদপুর
  14. বিনোদন
  15. বিয়ানীবাজার

আমরা ঋণ নিলেও একটা হিসাব থাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক ডাকবাংলা ডট কম
এপ্রিল ১১, ২০২২ ১১:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে বলে একটা কথা রটাচ্ছে। আমরা উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা নিচ্ছি, এটা ঠিক। কিন্তু সব সময় আমাদের একটা হিসাব থাকে। আমরা ডিফল্টার না।

আমরা যেখান থেকে যত ঋণ নিয়েছি, প্রতিটি ঋণ আমরা সময়মতো পরিশোধ করেছি। যত দুর্দশা হোক, এমনকি করোনার মধ্যেও আমরা ঋণখেলাপি হইনি। ’
গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই বলে আক্ষেপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শক্তিশালী বিরোধী দল আমরা পাচ্ছি না। অপজিশন বলতে দুটি পার্টি আছে। দুটিই সামরিক শাসকদের হাতে গড়া। জনগণের কাছে তাদের অবস্থান নেই। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অপজিশন বলতে যারা আছে, তার মধ্যে দুটি পার্টিই (বিএনপি ও জাতীয় পার্টি) মিলিটারি ডিক্টেটর—একেবারে সংবিধান লঙ্ঘন করে, আর্মি রুলস ভঙ্গ করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের হাতে গড়া। কাজেই ঠিক মাটি ও মানুষের সঙ্গে যে সম্পর্ক, সেই সম্পর্কটা তাদের মধ্যে নেই। তাদের কাছে ক্ষমতাটা ছিল একটা ভোগের জায়গা। সেই ক্ষেত্রে আসলে অপজিশন তাহলে কোথায়? এখানে একটা পলিটিক্যাল সমস্যা কিন্তু আছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শক্তিশালী বিরোধী দল আমরা পাচ্ছি না। তাদের অবস্থানটা মানুষের কাছে নেই। কারণ তারা তো এসেছেই একটা ভাসমান অবস্থায়। কাজেই তাদের ওই শিকড় তারা গড়তে পারেনি। সেই ক্ষেত্রে আমাদের ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড থেকে যখন শোনায় যে এখানে ডেমোক্রেসি, পার্টিসিপেটরি ডেমোক্রেসি, ইলেকশন, হেনতেন; কিন্তু আসলে এখানে করবেটা কী। সেটাও তারা চিন্তা করে না। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলতে গেলে অনেক দল দরকার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, উন্নত বিশ্বে আপনারা দেখবেন, সেখানে কিন্তু মাত্র দুই দল হয়ে গেছে এখন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুটির বেশি শক্তিশালী দল নেই। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আবার নির্বাচনে আমি তো জানি আমেরিকার প্রায় ২৫ শতাংশ সংগঠন ইলেকশনই করে না। ইলেকশন করার বিষয়ে একটা অনীহা চলে আসে মানুষের। এটাও কিন্তু অনেক দেশে দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশটা ধীরে ধীরে ওরকম হয়ে যাচ্ছে। ’

বিগত বিএনপি-জামায়াত আমলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেছনে থেকে তাদের উৎসাহ দিয়ে একবার ক্ষমতায় আনতে পারে, যেটা ২০০১ সালে এনেছিল। কিন্তু তার পরিণতি কী ছিল? বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, বাংলাভাই সৃষ্টি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, ৫০০ জায়গায় এক দিনে বোমা হামলা, আমরা যখন অপজিশনে ছিলাম তখন আমাদের ওপর গ্রেনেড হামলা, অপজিশনের অনেক নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলা, কামরান মারা গেছে তার ওপর দুইবার গ্রেনেড হামলা হলো, হেলালের মিটিংয়ের ওপর হামলা, সেখানে ৯ জন মারা গেল। এ রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয় সেই সময় সারা দেশজুড়ে। যার জন্য ইমার্জেন্সি, তারপরে, এটা হলো বাস্তবতা। ’

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।