ঢাকারবিবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. International
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উৎসব
  6. খেলাধুলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম
  11. পরামর্শ
  12. প্রবাস
  13. ফরিদপুর
  14. বিনোদন
  15. বিয়ানীবাজার

শিক্ষকতা ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক ডাকবাংলা ডট কম
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ মোশাররফ রুবেল গড়ে তুলেছেন নিজের সফটওয়্যার ফার্ম কিউটেক সল্যুশন লিমিটেড। তাঁর প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সফটওয়্যার সেবা, ডাটা অ্যানালিটিকস, ডিজাইন, মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করেছে দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রিয়াদ আরিফিন

যেভাবে শুরু

মোশাররফ রুবেল কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রগ্রামিং ছিল তাঁর বিশেষ ভালো লাগার জায়গা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে প্রগ্রামিংয়ে দক্ষতা বাড়াতে কাজ করে যান তিনি। আর এতে দক্ষতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স-কারিকুলামের বাইরেও শিখেছেন অনেক বিষয়। পাশাপাশি বন্ধুরা মিলে বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজও করেছেন। এ থেকে একদিকে যেমন তাঁদের আয় হয়েছে, ভারী হয়েছে অভিজ্ঞতার ঝুলিও।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দেশীয় একটি ই-কমার্স কম্পানিতে সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে প্রথম কর্মজীবনে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর নামকরা আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেক্টরেই। পড়াশোনা শেষ করে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে।

পরে সব কিছু ছেড়ে মনোনিবেশ করেন নিজের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে। ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে কিউটেক সল্যুশন। এতে তাঁকে সাহস জুগিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের কাজের অভিজ্ঞতা।

মহামারিতেও কাজ করেছেন

প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাঁদের যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালের গোড়ার দিকে। শুরুর মাত্র তিন মাসের মাথায় করোনা মহামারির ধাক্কায় অন্য সব সেক্টরের মতো তাঁদের ওপরও খড়্গ নেমে আসে। বন্ধ করে দিতে হয় সদ্য শুরু করা অফিস। অফিস বন্ধ হলেও বাড়িতে বসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা।

মহামারির মধ্যেও তাঁরা কাজ পেতে থাকেন। এরপর আর থেমে যেতে হয়নি তাঁদের।

কিউটেকের বর্তমান হালচাল

শুরুতে তিন-চারজন মিলে শুরু করলেও বর্তমানে তাঁদের টিমে কাজ করছেন ২০ জনের বেশি সদস্য। তাঁরা কাজ করছেন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন ইত্যাদি ক্ষেত্রে। বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন তারা সেগুলোর বেশির ভাগই বিদেশি- যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, ওমান, তুরস্কের। দেশেরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-কমার্স, ই-লার্নিং থেকে শুরু করে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানও।

বর্তমানে তাঁদের আয় থেকে কর্মীদের আকর্ষণীয় হারে বেতন-ভাতা মেটানোর পাশাপাশি সন্তোষজনক অঙ্কের মুনাফা অর্জিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ রুবেল।

এই সেক্টরে নিজেদের কাজের পরিধি বাড়াতে তাঁরা উত্তরোত্তর কাজ করে যাচ্ছেন। হালের ক্রেজ মেশিন লার্নিংকেও বিশেষভাবে প্রাধান্য দিচ্ছেন তাঁরা।

ডাটা নিয়েও চলছে কাজ

স্থানীয় বাজার বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে ব্যাবসায়িক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ধরনের তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন পড়ে। আর এই তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তিতে বেগ পেতে হয় অনেক ক্ষেত্রে। নিজেরা এই সমস্যা অনুধাবন করে তা সমাধানের উদ্যোগও নিয়েছেন। এ জন্য তাঁরা গড়ে তুলেছেন ‘ডাটাঘর’ নামের সহযোগী আরেক প্রতিষ্ঠান।

ব্যাবসায়িক কিংবা শিক্ষার গবেষণা ও বিশ্লেষণের জন্য তাঁরা বিভিন্ন ধরনের ডাটাসেট সংগ্রহ ও তা সরবরাহ করে থাকেন। ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে কাজটি শুরু করলেও শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে শিক্ষাসংক্রান্ত অনেক ডাটাসেট তাঁরা বিনা মূল্যেই প্রদান করছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মোশাররফ রুবেল।

ছিল চ্যালেঞ্জও

তাঁদের এই অগ্রযাত্রায় ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে বেগ পেতে হয়েছে তাঁদের। মোশাররফ রুবেল বলেন, ‘এই সেক্টরে অগ্রজদের সঙ্গে নতুনদের মেলবন্ধনের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় অগ্রজদের সঙ্গে কেবলমাত্র নলেজ শেয়ারিংয়ের সুযোগ পেলেই তা নতুন উদ্যোক্তাদের যথেষ্ট অগ্রগতি এনে দেয়।’ ব্যাপারটিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এ ছাড়া দেশে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যাবসায়িক নানা সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতার মধ্যে পড়তে হয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো। এগুলো নিরসনে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নতুনদের জন্য পরামর্শ

এই সেক্টরে উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন মোশাররফ রুবেল।

সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হলে প্রগ্রামিং দক্ষতার বিষয়ে জোর দিতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকালীনই দক্ষতা বাড়ানোর জোর পরামর্শ দেন। জানিয়েছেন এই সেক্টরে দক্ষ জনবল সংকটের কথা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা হাজার হাজার তরুণ চাকরি পাচ্ছেন না। কারণ, তার মতে, প্রার্থীদের দক্ষতা ঘাটতি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় স্কিলগুলো জেনে সেগুলোর মানোন্নয়নে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া উদ্যোক্তা হিসেবে এই সেক্টরে যাঁরা আসতে চান তাঁদের আইটি ক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি মার্কেটিং, বিজনেস, অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিষ্ঠান চালাতে এসব বেশ প্রয়োজনীয়।

অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করেও অনেকে আইটি সেক্টরে ভালো করছেন। এই সেক্টরে ভালো করার চাবিকাঠি দক্ষতা। অর্থনীতি নিয়ে স্মাতক করা তরুণও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে কাজ করছেন কিউটেকে।