ঢাকাশনিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. International
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উৎসব
  6. খেলাধুলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম
  11. পরামর্শ
  12. প্রবাস
  13. ফরিদপুর
  14. বিনোদন
  15. বিয়ানীবাজার

স্ত্রী-শ্বশুর-শ্যালকের হাতে নির্যাতনের শিকার সৌদিপ্রবাসী জামাই

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক ডাকবাংলা ডট কম
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিয়ের এক মাসের মাথায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্যালকের হাতে প্রবাসী জামাই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সৌদিপ্রবাসী তহিদুল ইসলাম নয়ন (২৯) আহতাবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়ে শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরে একাধিক কামড় ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামে শ্বশুর সবুর আকনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আহত প্রবাসী তহিদুল ইসলাম নয়ন উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের সৌদিপ্রবাসী আবুল বাশার হাওলাদারের ছেলে। তিনি ছয় বছর ধরে বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে থাকেন।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন তহিদুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘আমি ৯ জানুয়ারি সৌদি থেকে বাড়িতে আসি। এরপর ২৩ জানুয়ারি পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের সবুর আকনের মেয়ে সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই শ্বশুর (সবুর আকন) আমার কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। নতুন জামাইয়ের কাছে শ্বশুরের টাকা ধার চাওয়ার বিষয়টি জানার পর আমার পরিবারে এ নিয়ে বিরূপ আলোচনা হয়। পরে আমার এক চাচা তার (শ্বশুর) কাছে টাকা চাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে মানসম্মান নষ্ট করার অভিযোগ তুলে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন তারা।’

নির্যাতনের শিকার তহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার পর গত বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্বশুর আমাদের বাড়িতে এসে তার মেয়েকে (স্ত্রী) নিয়ে যান। এ সময় আমার স্ত্রী গোপনে আলমারিতে থাকা সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে আলমারিতে টাকা ও স্বর্ণালংকর না পেয়ে স্ত্রীকে ফোন করে জানতে চাইলে সঠিক কোনো জবাব না দিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতে থাকে। এরপর বারবার ফোন করা হলেও আর রিসিভ না করায় শুক্রবার রাতে আমি শ্বশুরবাড়িতে গেলে স্ত্রী, শ্বশুর, স্ত্রীর বড় ভাই বায়জিদসহ তিনজনে মিলে আমাকে মারধর করে। এ অবস্থায় ভোররাতে আমি পালিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামে আমার এক ফুফুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিই। সকালে তারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্বশুর সবুর আকন মুঠোফোনে বলেন, ‘জামাই রাতে বাড়িতে আসার পরে মেয়ের সঙ্গে তার ঝগড়া এবং হাতাহাতি হয়েছে। আমরা উভয়কে শান্ত হতে বলেছি। আমি বা আমার ছেলে কেউ তার গায়ে হাত দিইনি। তা ছাড়া জামাইয়ের কাছে টাকা ধার চাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।’
শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস এম ফয়সাল আহমেদ জানান, তহিদুল ইসলাম নয়ন নামের এক ব্যক্তি সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং গলায় কামড় ও আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, আহত ব্যক্তিকে তার স্বজনরা থানায় নিয়ে এলে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।