1. admin@doinikdakbangla.com : Admin :
২৫% কার্বনের কারণ খাদ্যাভ্যাস » দৈনিক ডাক বাংলা
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

২৫% কার্বনের কারণ খাদ্যাভ্যাস

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট, দৈনিক ডাক বাংলা ডটকম
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩০ বার পঠিত

সুইডেনের আলোচিত পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বলেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত মানুষ যদি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারে আর উপলব্ধি করে যে আমরা আসলেই অস্তিত্বসংকটে পড়তে যাচ্ছি, আর বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তখনই কেবল আমরা বাঁচতে পারব।’

অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের দায় ও মোকাবেলার দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বিশ্বের নাগরিকদের নিশ্চিন্তে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ প্রত্যেক নাগরিকের ভোগ থেকে নিঃসৃত কার্বনের সমষ্টিই রাষ্ট্রের ওপর দায় হয়ে চাপে। বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন, পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও অভ্যাস পরিবর্তন প্রয়োজন। বিপুল কার্বন নিঃসরণ করে প্রস্তুত করা কারখানাজাত সব ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার কমাতে হবে, পরিবর্তন আনতে হবে খাদ্যাভ্যাসসহ সার্বিক জীবন ব্যবস্থায়।
আমাদের খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে প্রাণিজ খাবার খাওয়ার প্রবণতা পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এক-চতুর্থাংশ দায়ী। এটি জল, স্থল ও আকাশপথে চলাচল করা সব ধরনের যান যে পরিমাণ নিঃসরণের জন্য দায়ী তার সমান। আমাদের উৎপাদিত উদ্ভিজ্জ খাবারও কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী, তবে তার মাত্রা অনেক কম।

‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে ২০১৮ সালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতিবছর ১৪.৫ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসৃত হয় প্রাণিজ খাবারের জন্য। এটি বর্তমানে বিশ্বের সব গাড়ি, উড়োজাহাজ ও জাহাজ যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে তার সমান! বিশেষ করে গরুর মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়।

গরুর পরে সবচেয়ে বেশি দায়ী প্রাণী ভেড়া। তাই সাধারণভাবে বললে গরু ও ভেড়ার মাংস উৎপাদনের ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ সবচেয়ে বেশি। কার্বন ফুটপ্রিন্ট হলো আমাদের কর্মকাণ্ডে যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসৃত হয় তার সমষ্টি। কার্বন ফুটপ্রিন্টের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে শূকর ও মুরগির মাংস। মানুষের তৈরি করা উদ্ভিজ্জ খাবারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট থাকলেও তার পরিমাণ সবচেয়ে কম। আর প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবারে একদমই নেই।
২০১৮ সালের ১ জুন সায়েন্স সাময়িকীতে গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বিভিন্ন খাবারের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের গড় পরিমাণ হিসাব করা হয়। দেখা যায়, প্রতি ৫০ গ্রাম গরুর মাংস উৎপাদনে ১৭.৭ কেজি কার্বন নিঃসরণ হয়। ভেড়ার মাংসে ৯.৯ কেজি, পনির উৎপাদনে ৩.৮ কেজি, শূকরের মাংসে ৩.৮ কেজি, খামারের মাছে তিন কেজি, পোলট্র্রিতে ২.৯ কেজি, ডিমে ২.১ কেজি, মটরশুঁটিতে ০.৪ কেজি, বাদামে ০.১ কেজি।

অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য মনে করেন, এসব খাদ্য উৎপাদন থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা আরো বেশি। কারণ পশু পালনের অনেক খামার গড়ে তোলা হয়েছে বন উজাড় করে। বন যেহেতু কার্বন শোষণে ভূমিকা রাখে, তাই প্রাণিজ খাবার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য আরো বেশি দায়ী।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সাদামাটা খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি তার কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে পারে। মানুষ যদি কেবল লাল মাংস (গরু, খাসি, মহিষ) ও দুধ খাওয়া বন্ধ করে বা একেবারে কমিয়ে দেয় তবে তা কার্বন নিঃসরণ কমাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। এর মানে এই নয় যে সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হতে হবে। শুধু বেশি কার্বন ফুটপ্রিন্টের খাবার (যেমন, গরু ও ভেড়ার মাংস আর পনির) খাওয়া কমিয়ে বা বাদ দিয়ে কম কার্বন ফুটপ্রিন্টের খাবার (যেমন মুরগি, ডিম ও মাছ) খাওয়ার অভ্যাস করলেই তা জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া জলবায়ুবান্ধব বাকি সব উদ্ভিজ্জ খাবার তো রয়েছেই।
তা জলবায়ুর ওপর মাংসের মতো আপাত সাধারণ একটা জিনিসের এত বড় প্রভাব কেন?

খামারের জন্য বন ধ্বংস ছাড়াও (যে কথা আগেই বলা হয়েছে) গরু ও ভেড়া পালন করা থেকে আসে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস। গরু ও ভেড়ার পাকস্থলীতে রয়েছে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা ঘাসসহ অন্যান্য খাবার পরিপাকে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়াই উৎপন্ন করে সবচেয়ে ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন। গ্যাসটি এসব পশুর ঢেঁকুরের মাধ্যমে ও পায়ুপথ দিয়ে বের হয়। গরুর মাংসের ৫০ গ্রাম প্রোটিন উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ মিথেন উৎপন্ন হয়, তা এক কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমান প্রভাব ফেলে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় আধাকেজি মাংসের জন্য দেড় কেজির কাছাকাছি পরিমাণ পশুখাদ্যের প্রয়োজন হয়। সাধারণভাবে বললে, আধাকেজি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন উৎপাদনের চেয়ে সমপরিমাণ মাংসের জন্য অনেক বেশি জমি, জ্বালানি ও পানির প্রয়োজন হয়। খামারে পালিত মাছেরও কার্বন ফুটপ্রিন্ট রয়েছে।

খাদ্যাভ্যাস বদলের পাশাপাশি নিতান্তই প্রয়োজন না হলে উড়োজাহাজে ভ্রমণ না করা, গণপরিবহন ব্যবহার করা, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া, রান্নায় জ্বালানি সাশ্রয়ী পদ্ধতির ব্যবহারসহ আমাদের সার্বিক কর্মকাণ্ডকে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তা করতে না পারলে মানব জাতি ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথেই এগোবে। কার্বন ফুটপ্রিন্ট ডটকম-ওয়েব ঠিকানায় নিজের অভ্যাসগুলো উল্লেখ করে যে কেউ তার বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের পরিমাণ জেনে নিতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডাক বাংলা

Theme Customized BY LatestNews