ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ অক্টোবর ২০২১
  1. International
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উৎসব
  6. খেলাধুলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম
  11. পরামর্শ
  12. প্রবাস
  13. ফরিদপুর
  14. বিনোদন
  15. বিয়ানীবাজার

বসবাসযোগ্য হোক ঢাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক ডাকবাংলা ডট কম
অক্টোবর ৭, ২০২১ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বায়ুমণ্ডলে বাড়ছে গিনহাউস গ্যাস। এর ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধির লাগাম টানার জন্য বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজন হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় নানা কারণেও কোনো কোনো এলাকার তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মানুষের কর্মক্ষমতা যেমন কমে যায়, তেমনি নানা ধরনের শারীরিক সমস্যারও সৃষ্টি হয়। বাড়ে রোগব্যাধি ও মৃত্যুর হার। এ ক্ষেত্রে দুটি উল্লেখযোগ্য গবেষণা হয়েছে। একটি গবেষণা বলছে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঢাকা মহানগর। অপর গবেষণায় ঢাকার ২৫টি এলাকাকে চরম উষ্ণ এলাকা বা ‘হিট আইল্যান্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে—বাড্ডা, গুলশান, কামরাঙ্গীর চর, মিরপুর, গাবতলী, গোড়ান, বাসাবো, শহীদনগর, বাবুবাজার, পোস্তগোলা, জুরাইন, হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কুর্মিটোলা, উত্তরা, কামারপাড়া, মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং, আদাবর, ফার্মগেট, তেজকুনিপাড়া, নাখালপাড়া ও মহাখালী। আরো কিছু এলাকার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। পরিস্থিতির এমন অবনতি ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শহরে ব্যবহৃত ভূমির ২৫ শতাংশ হতে হবে গাছপালাসমৃদ্ধ সবুজ এলাকা। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ থাকতে হবে জলাশয়। তা না হলে জনজীবনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বেই। ঢাকায় যত মানুষ বাড়ছে, তত কমছে সবুজ এলাকা ও জলাশয়। ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ। বাড়ছে বহুতল ভবন, ঘরে ও গাড়িতে লাগানো এয়ারকন্ডিশনারসহ তাপ ছড়ানো যন্ত্রপাতির ব্যবহার। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তো আছেই। বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, ঢাকায় যে পরিমাণ তাপমাত্রা বাড়ছে, তার ২০ শতাংশই বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে। এসংক্রান্ত প্রথম গবেষণাটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা টুইন সিটিজ, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে গত সোমবার গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা ১৯৮৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৩ হাজার শহরে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করেছেন। দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে এমন ২৫টি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি অন হিটওয়েভ ইন ঢাকা’ শীর্ষক অপর গবেষণাটি করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, জার্মান রেডক্রস ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
১৯৮৩ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৪০ লাখের কাছাকাছি। এখন তা সোয়া দুই কোটির বেশি। ভাসমান জনসংখ্যা হিসাবে নিলে এই সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। এভাবে ঢাকায় জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে এখানে স্বাস্থ্যসম্মত বসবাস নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ জন্য নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগী হতে হবে। নগর পরিকল্পনাবিদ, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ঢাকার বাসযোগ্যতার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং দ্রুত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।