1. admin@doinikdakbangla.com : Admin :
টিকার ‘অগ্রাধিকার’ খেই হারাচ্ছে মাঠে » দৈনিক ডাক বাংলা
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৮ অপরাহ্ন

টিকার ‘অগ্রাধিকার’ খেই হারাচ্ছে মাঠে

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৪ বার পঠিত

প্রতিটি দেশেই করোনা টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় বলা আছে। বাংলাদেশের টিকার পরিকল্পনায়ও সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের পরই বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এমনকি গত মাসে বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার সময়ও গ্রাম পর্যায়ে বয়স্ক মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিবন্ধন করে টিকা দেওয়ার দিকনির্দেশনা ছিল। এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু পঞ্চাশোর্ধ্বদের মধ্যে থাকার সূচকটিকেই নজরে রাখা হয়, কিন্তু মাঠের টিকা কার্যক্রমে কম বয়সীদের ভিড়ে সেই পরিকল্পনা ধোপে টিকছে না। ফলে তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী নিবন্ধন ও টিকায় পিছিয়ে পড়ছে।

এদিকে নিবন্ধনকারীদের মধ্যেও এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক মানুষ রয়ে গেছে টিকার বাইরে। এমনকি নিবন্ধন ও টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাভোগীরাই এগিয়ে থাকছে বলে পর্যবেক্ষণ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। যারা মোটেই টিকা পায়নি, তাদের টিকার আওতায় আনার ক্ষেত্রে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সামাজিক জোরালো কোনো গতি তৈরি হয়নি। এসব দিকে নজর রেখেই সামনের টিকা কার্যক্রমে যেকোনো কৌশলে বয়স্ক, ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের টিকা আগে নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার টিকাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছে চার কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে টিকার নাগাল পেয়েছে দুই কোটি ৩০ লাখের কাছাকাছি বা ৫৪ শতাংশ নিবন্ধনকারী। বাকি প্রায় দুই কোটি বা ৪৬ শতাংশ টিকা পায়নি।

টিকা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত নিবন্ধনকারী পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষের মধ্যে টিকা পেয়েছে বড়জোর অর্ধেক মানুষ। কারো কারো মতে, ৫০ বছর বয়সীদের নিচে টিকা নামানোর ক্ষেত্রে সরকারের আরো কিছুটা সময় নেওয়া উচিত ছিল। ফলে এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, নিবন্ধনকারী পঞ্চাশোর্ধ্ব বাকি মানুষের টিকা দ্রুত নিশ্চিত করা। পাশাপাশি যারা নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে, তাদেরকে এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে খুঁজে টিকার আওতায় আনা।

এদিকে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৮ বছরের ওপরের ১১ কোটি সাড়ে ৭৮ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র চার কোটি (৩৬ শতাংশ) মানুষের নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে এখনো প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছে ১৯ শতাংশ ও দুই ডোজ পূর্ণ করেছে ১২ শতাংশ। আর দেশের মোট জনসংখ্যার হিসাবে প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছে ১৩ শতাংশ ও দুই ডোজ পূর্ণ করেছে ৯ শতাংশ মানুষ।
ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন টেকনিক্যালি অ্যাডভাইজারি গ্রুপের (নাইট্যাগ) সদস্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহম্মেদ বলেন, টিকার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় আরো শৃঙ্খলা আনা জরুরি। ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্বলতার কারণে পরিকল্পনা যেটা করা হয়, মাঠে সেটা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা অনুযায়ী যে জনগোষ্ঠীর করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি, তাদের আগে টিকা দিতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে নিচে নামা উচিত। নয়তো এক ধরনের লেজে-গোবরে অবস্থার শঙ্কা রয়েছে।

ওই বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, এই দফায় গ্রামের বয়স্ক মানুষের মৃত্যু বেশি হয়েছে এবং যাদের ৯০ শতাংশেরই বেশি টিকা না পাওয়া। ফলে সামনে যদি সংক্রমণ আবার বাড়ে, তখনো কিন্তু একইভাবে গ্রামের টিকার বাইরে থাকা বয়স্কদের মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। এ জন্য আগে ১৮ বছরের ওপরের জনগোষ্ঠীর টিকা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার পর ১২ থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত টিকা দেওয়া শুরু করা ভালো হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা টিকাপ্রাপ্তিতে সংকটের কারণে পরিকল্পনার সবটা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত করতে পারিনি। এ ছাড়া মাঝে আরো কিছু উদ্ভূত পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবু আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি। এখন আমরা আগের পরিকল্পনার কৌশল ধরেই টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছি। এটা ঠিক বিশেষ কোনো ক্যাম্পেইন বলতে চাই না। বরং সপ্তাহে দুই দিন রুটিন আকারে নিয়মিত প্রতিটি ইউনিয়নে টিকা দেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে বয়স্কদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ‘এখন প্রতি মাসে দুই কোটি করে টিকা আসা নিশ্চিত। তাই আশা করি, টিকায় গতি আসবে। মানুষ এখন শৃঙ্খলার সঙ্গেই টিকা নিতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখনই ১৮ বছরের নিচে যাচ্ছি না। কারণ এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন লাগবে। বিশ্বে দু-একটি দেশ ছাড়া ১৮ বছরের নিচে রুটিন আকারে ছোটদের টিকা দেওয়া শুরু হয়নি। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত বয়স্কদের টিকাতেই আগাতে পারছি না। ফলে আমরা ধাপে ধাপেই এগোতে চাই।’

অবশ্য সরকার গঠিত করোনা মোকাবেলায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বয়স্কদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি বলে তাদের আগে টিকা দেওয়া অগ্রাধিকার আছে। তবে এখন যেহেতু স্কুল খুলেছে তাই ছোটদের টিকাও দরকার। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেলে যতটা দ্রুত সেটাও শুরু করতে পারলে ভালো হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডাক বাংলা

Theme Customized BY LatestNews