1. admin@doinikdakbangla.com : Admin :
ইসলামী ব্যাংকিং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে চাই » দৈনিক ডাক বাংলা
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

ইসলামী ব্যাংকিং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে চাই

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক ডাকবাংলা ডট কম
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯৯ বার পঠিত

বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, তাই এ দেশে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা খুবই জনপ্রিয়। আমরা ইসলামী ব্যাংকিং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে চাই এবং এ লক্ষ্যে শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে শাখা, উপশাখা স্থাপনকে প্রাধান্য দিচ্ছি। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা জানান গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হাবিব হাসনাত।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ২৭ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করছে। করোনাকালীন ইসলামী ব্যাংকিং তার অগ্রগতি বজায় রেখেছে। চলতি বছরও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তাই এ খাতের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।’
এ বছরের শুরুতে অর্থাৎ ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক থেকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড নাম ধারণ করে সম্পূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং শুরু করেছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই ক্ষুদ্র পথচলাতেই আমরা সুফল পেতে শুরু করেছি, যা আমাদের ভবিষ্যৎ সাহসী পথচলায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আমাদের ডিপোজিট, বিনিয়োগ এবং মুনাফার সব সূচকই গত অর্থবছরের শেষ ছয় মাসের তুলনায় ভালো উন্নতি হয়েছে। আশা করছি চলতি বছর শেষে এই সূচকগুলো আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।’

এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পাশাপাশি ব্যাংকের নেটওয়ার্ক বিস্তৃতিতেও সমান মনোযোগী। বর্তমানে সারা দেশে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে ৮৬টি শাখা, ৭২টি উপশাখা, তিনটি এজেন্ট ব্যাংকিং ও ৯১টি এটিএম। আমরা বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ করছি এবং আমাদের এই প্রয়াস ইসলামী ব্যাংকিংকে জনপ্রিয় করে তুলছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পেজিয়ামের মাধ্যমে আমরা ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে যাচ্ছি।’

সৈয়দ হাবিব হাসনাত বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আমাদের পথচলা নতুন হলেও এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছু জনপ্রিয় স্কিম চালু করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবাহ এসএনডি হিসাব, মুদারাবাহ কুইন সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ পারফেক্ট সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ জুনিয়র সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ ফ্রেশারস সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ ফার্মারস সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ সেলারি সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ মেয়াদি আমানত হিসাব, মুদারাবাহ স্টুডেন্ট সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ স্বদেশ সঞ্চয়ী হিসাব (এনআরবিদের জন্য), মুদারাবাহ তৌফিক (লাখপতি) আমানত স্কিম, মুদারাবাহ তায়েবা (মিলিয়নেয়ার) আমানত স্কিম হিসাব, মুদারাবাহ হাসানাহ (কোটিপতি) আমানত স্কিম, মুদারাবাহ তাহসিন (ডাবল) আমানত স্কিম, মুদারাবাহ ডিপোজিট পেনশন সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবাহ মাসিক মুনাফা আমানত স্কিম, মুদারাবাহ ম্যারেজ সঞ্চয় স্কিম, মুদারাবাহ লাব্বাইক হজ আমানত স্কিম এবং মুদারাবাহ এনআরবি সেভিংস বন্ড স্কিম। স্কিমগুলোর মধ্যে মুদারাবাহ লাব্বাইক হজ আমানত স্কিম ও মুদারাবাহ এনআরবি সেভিংস বন্ড স্কিম আমাদের সাম্প্রতিক সংযোজন এবং খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কার্যকরী স্কিম চালু করার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন স্কিম চালু করার প্রক্রিয়ায় আছি। দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স খুব কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩৩ শতাংশই আসে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। দ্রুত, কার্যকর ও সন্তোষজনক সেবা প্রদানে সক্ষম বলেই ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের এই আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। রেমিট্যান্সের টাকাকে অধিক নিরাপদে রাখার জন্য আমাদের আছে প্রবাসী অ্যাকাউন্ট ও স্বদেশ অ্যাকাউন্ট। সম্প্রতি আমরা চালু করেছি মুদারাবাহ এনআরবি সেভিংস বন্ড স্কিম নামের আরো একটি স্কিম। এই স্কিমের মাধ্যমে প্রবাসীরা সর্বোচ্চ মুনাফায় বন্ড স্কিম খুলতে পারবে এবং তাদের কষ্টের টাকা সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করতে পারবে। আমাদের প্রায় প্রতিটি মানি ট্রান্সফার এজেন্সির সঙ্গে সংযোগ আছে।

হাবিব হাসনাত বলেন, ‘আমাদের দেশে ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণের জন্য যদিও ইসলামিক কেন্দ্রীয় সংস্থা আছে, তথাপি শরিয়াহ নীতিমালা তৈরির কাজ এখনো চলমান। তাই সমসাময়িক বিভিন্ন কারণে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল। তাই ইসলামী ব্যাংকিং প্রসারে আমরা বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের মূল ফোকাস দক্ষ জনবল সৃষ্টি করা এবং এ জন্য আমাদের রয়েছে আলাদা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। এই ইনস্টিটিউটে আমরা দেশের প্রথিতযশা ইসলামী ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে কর্মীদের প্রশিক্ষণদান করি যেন তাঁরা সর্বোন্নত ব্যাংকিংসেবা নিশ্চিত করতে পারে। তা ছাড়া দেশব্যাপী শাখা, উপশাখা ও এটিএমের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক বিস্তার করার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিংসেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। আমরা মনে করি ইসলামী ভাবধারায় আধুনিক সেবাদান করে আমরা দেশের মানুষের মন জয় করতে পারব এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাই হবে দেশের মূল ধারার ব্যংকিং ব্যবস্থা।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডাক বাংলা

Theme Customized BY LatestNews