1. admin@doinikdakbangla.com : Admin :
১৭ লাখ শিক্ষার্থীর সামনে জটিল হিসাব » দৈনিক ডাক বাংলা
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

১৭ লাখ শিক্ষার্থীর সামনে জটিল হিসাব

নিজস্ব প্রতিনিধি,দৈনিক ডাকবাংলা ডট কম
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ৬৫ বার পঠিত

এত দিন সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মাঝামাঝিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হতো। আর ভর্তি হতে হতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফল প্রকাশ হয়ে যেত। এতে যদি কোনো শিক্ষার্থী পছন্দের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেতেন, তাহলে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে পারতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষাই নিতে পারছে না। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শেষ হচ্ছে ১৪ আগস্ট। এতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে এক ধরনের জটিল হিসাব নিয়ে বসতে হচ্ছে ১৭ লাখ শিক্ষার্থীকে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নেয় না, শুধু জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় বিভিন্ন কলেজে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন ২৮ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, চলবে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। প্রথম বর্ষে ভর্তি করা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ভর্তি পরীক্ষা অক্টোবরে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন। যাঁরা সুযোগ পান না তাঁদের মধ্যে যাঁরা আর্থিকভাবে সচ্ছল তাঁদের অনেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। যাঁরা বাকি থাকেন তাঁদের বেশির ভাগই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ভর্তি হন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জিপিএ সাধারণত ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকে। এবার যাতে ভর্তির সুযোগ হাতছাড়া না হয় সে জন্য অনেককেই আগেভাগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। এতে অপেক্ষাকৃত কম জিপিএধারী শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী নাঈম রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ি খুলনায়। যদি পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পাই সেই চিন্তা করেই খুলনা বিএল কলেজের ফরমও তুলে রাখতে হচ্ছে। প্রয়োজনে ভর্তিও হয়ে থাকব। আমরা মনে করেছিলাম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি দেবে। সেটা না হওয়ায় সব হিসাব ওলটপালট হয়ে গেল।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে আগামী ৩১ জুলাই থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা সেই তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু করার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজেও ভর্তি আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে তাদের অধিভুক্ত কলেজে ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ হলে সেখানেও জটিলতা সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। ১০ জুন তাদের মূল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা স্থগিত করা হয়েছে। প্রাক-নির্বাচনী ও চূড়ান্ত ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ১০ দিন আগে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০ আগস্ট থেকে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ আগস্ট থেকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ গত ২৫ জুন শেষ হয়েছে। মোট তিন লাখ ৬১ হাজার আবেদন পড়েছে। তারা এখনো ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেনি। গুচ্ছভুক্ত সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। আর আগামী ১২ আগস্ট ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করলেও গুচ্ছভুক্ত তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গতকাল মঙ্গলবার পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান জানান, যাঁরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন তাঁদের লক্ষ্য স্থির থাকে, তাঁদের সেভাবে প্রস্তুতি থাকে। ফলে তাঁরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে অংশ নেন না। তবে এটাও ঠিক, অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ভর্তি হন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গেই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আসছি। সেখানে দেখেছি, ১ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির পর চলে যায়। এ জন্য আমরা দ্বিতীয় রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তি করে থাকি। তবে এবার যদি দেখি বেশি শিক্ষার্থী চলে গেছে, প্রয়োজনে তৃতীয় রিলিজ স্লিপের ব্যবস্থা করা হবে।’

এই উপাচার্য আরো বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে চলে। তাই এই সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মধ্যে নিয়ে আসাই আমার কাছে মনে হয় ভালো সিদ্ধান্ত।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও চিটাগং ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভর্তি পরীক্ষা নিই, কিন্তু করোনার বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে আশার কথা, সরকার শিক্ষার্থীদের টিকা দিচ্ছে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয় তাহলে আমরা অক্টোবরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডাক বাংলা

Theme Customized BY LatestNews