1. admin@doinikdakbangla.com : Admin :
কারাগারের রোজনামচা (পর্ব-০২) » দৈনিক ডাক বাংলা
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

কারাগারের রোজনামচা (পর্ব-০২)

উপ-সম্পাদক, শহীদ আহমদ
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৪ বার পঠিত
কারাঘারের রোজনামচা

জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কারাগারের রোজনামচা বইটি যারা পড়েন নি কিংবা সংগ্রহ করতে পারেন নি। তাদের জন্য পর্ব আকারে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক ডাক বাংলা উদ্দোগ গ্রহন করেছে। যা আজ দ্বিতীয় পর্বটি আপনাদের জন্য তুলে ধরাহলো:-

কারাগারের রোজনামচা (পর্ব-০২)

জেলের ভিতর হাসপাতাল আছে, ডাক্তারও আছে। অসুস্থ হলে। চিকিৎসাও পায়। কাজ করতে হয়। যার যা কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়। যারা লেখাপড়া জানে, তারা অফিসে রাইটারের কাজ করে। কেহ বাগানে, কেহ গুদামে, কেহ ফ্যাক্টরিতে, কেহ সুতা কাটে, কেহ পাক করে, কেহ ঝাড় দেয়, আর কেহ মেথরের কাজও করে। যত রকম কাজ সবই কয়েদিদের করতে হয়। সন্ধ্যার পরে কেউ বাইরে থাকতে পারেনা। সন্ধ্যায় সকলকেই তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাইরে থেকে। ভিতরে থাকে কয়েদিরা। কয়েদিরা যতদিন জেলে থাকে – সন্ধ্যার পরে অন্ধকার হল, কি চাদের আলো, এ খবর খুব কম রাখে। কয়েকদিনের ভিতর আবার প্রোমোশনও হয়। কালে পাগড়ি নাইটগার্ড, গেট পাহাড় দেয় ইত্যাদি। যে সাজা তাদের দেয়া হয়। তার অর্ধেক জেলখাটা হয়ে গেলে তাদের পাহারার কাজ দেয়া হয়। পাহারাদের কালাে ব্যাচ পড়তে হয়। এরা দরজায় দরজায়, দেয়ালে দেয়ালে, পাহারা দেয়। আবার কেউ কয়েকজন কয়েদির মালিক হয়, এই কয়েদিদের কাজ করায়। সেলে ব্যাজের ‘পাহারা’ জেলের সকল যায়গায় যেতে পারে। কাউকে ডাকতে হলে, কোন কয়েদিকে আনার দরকার হলে জমাদার সিপাহিরা এদের পাঠায়। এদের উপর থাকে, ‘কনভিক্ট ওভারসিয়ার’ – যাদের ‘মেট’ বলা হয়, এদের কোমরে চামড়ার বেল্ট থাকে। এরাও পাহারাদের মত কাজ করায়। কয়েকজন কয়েদি – তাদের উপর যে যার মেট থাকে – এদের দেখাশোনা করে। তিনভাগের দুইভাগ সাজা খাটা হলে ‘মেট’ হতে পারে। এর উপর নাইটগার্ড করা হয়। এরা কোমরে বেল্ট ও সিপাহিদের মত বাঁশি পায়। দরকার হলে এরা বাঁশি বাজাতে পারে এবং পাগলা ঘণ্টা দেওয়াতে পারে। যারা রাতে সিপাহীদের সাথে ডিউটি দেয় তাদের খাট – মশারি – বালিশ দেয়া হয়। তারা জেলের ভেতরে সকল যায়গায় ঘুরতে পারে। এর উপরে থাকে কালা পাগড়ি, তাদের কালা পাগড়ি পড়তে হয় এরা কোমরে বেল্ট ও বাঁশি পায়। এদের ক্ষমতা প্রায় সিপাহিদের সমান। এরা এক একটা এরিয়ার চার্জে থাকে এবং সেই জমাদারদের সাহায্য করে।

যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড খাটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে তাদেরই এই ‘পাওয়ার’ দেয়া হয়। সকলকেই নাইটগার্ড বা কালা পাগড়ি দেয়া হয় না। যারা জেলের মধ্যে ভালভাবে থেকেছে, স্বভাব চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় তাদেরকেই নাইটগার্ড করা হয়। কালা পাগড়ি ওঁ নাইটগার্ডদের বাইরে ডিউটি দেয়া হয়। ‘মেট’ পাহারা ভেতরে পাহারা দেয়। যেখানে কয়েদিদের বন্ধ করে রাখা হয় সেখানে পাঁচজন করে মেট পাহারা থাকে। তারা দুই ঘণ্টা করে পাহারা দেয়। বাইরের থেকে সিপাহিরা জিজ্ঞাসা করে ভেতর থেকে উত্তর দেয়। প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে নাম্বার আছে। সিপাহিরা জিজ্ঞাসা করে আর নম্বর বলে ভেতর থেকে উত্তর দিতে হয়। যেমন একজন সিপাহি বলল, ‘পাঁচ নাম্বার’ সাথে সাথে ভেতর থেকে বলতে হবে, ঠিক আছে, পঞ্চাশ জানালা বাড়ি ঠিক। মানে হল কয়েদি ৫০ জন, আর বাড়ি ঠিক আছে। আবার জানালাও ঠিক আছে। এমনি এক নম্বর, দুই নম্বর, তিন নম্বর – এমনি করে রাতভর সিপাহিরা ডাকতে থাকে, যার উত্তর কয়েদি পাহারা ওঁ মেটেরা ভিতর থেকে দিতে থাকে। রাতে দুই ঘণ্টা পরপর সিপাহি বদলি হয়ে যখন নতুন সিপাহি আসে, তারা এসে তালা ভালভাবে চারিদিক পরীক্ষা করে দেখে, পূর্বের সিপাহির কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে হয়। সিপাহি বদলির সাথে সাথে আবার ভিতরে পাহারাও বদলি হয়ে পূর্বের পাহারার থেকে কাজ বুঝে নেয়। কয়েদিরাই কয়েদিদের চালনা করে ও কাজ করায়। কাজ বুঝিয়ে দিতে হয় আবার কাজ বুঝে নিতে হয়। কয়েদিদের ওপর যে অত্যাচার হয় বা মারপিট হয়, তাও কয়েদিরাই করে। ইংরেজের কায়দা, ‘কাটা দিয়েই কাটা তোলা হয়’। একটা সত্য ঘটনা না লিখে পারছিনা। ঘটনাটা ঢাকা জেলে ঘটেছিল।

চলবে..

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ডাক বাংলা

Theme Customized BY LatestNews