ঢাকামঙ্গলবার , ১৪ জুলাই ২০২০
  1. International
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উৎসব
  6. খেলাধুলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম
  11. পরামর্শ
  12. প্রবাস
  13. ফরিদপুর
  14. বিনোদন
  15. বিয়ানীবাজার

প্রবাসীদের প্রত্যাশা জাগ্রত হউক বাংলাদেশ দূতাবাস!

নিজস্বপ্রতিনিধি,দৈনিক ডাক বাংলা ডটকম
জুলাই ১৪, ২০২০ ৩:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য ড্রপ বক্সে লেটার পাঠানোর ৩ দিনের মাথায় মেসেজ আসলো next working ডে তে দুতাবাসে আসার জন্য ডেলিভারি রিসিট না কি দিবেন।
গেলাম দুপুর ১২ টা মধ্যে দেখি গিয়ে গেইটে কেউই নাই! ৩৬ ডিগ্রী তাপমাত্রায় পর্তুগালের লিসবনে অবস্হিত বাংলাদেশ দূতাবাসে দাড়িয়ে অনেক ডাকা ডাকির পর ১৩:১৫ মিনিটে এক ভদ্র মহিলা আসলেন বললেন কি হয়েছে বিস্তারিত বলার পর বললেন দেখি আপনাদের এসএমএস।

তার পর উনি বললেন আপনারা দেরি করে এসেছেন রিসিট এখন আর দেওয়া যাবে না!
আমরা দুজন মানুষের বাস ভাড়া খাওয়া দাওয়া সহ প্রায় ২০ ইউরের মত খরচ করে আসলাম। করোনা মহামারির এই সময় ১ ইউরো অনেক টাকা। যেখানে কাজ কর্ম নেই বললেই চলে।যাই হউক তর্ক করে কোনো লাভ নেই যেই কাজে এসেছি সেটা কোনোমতে করতে পারলেই সার্থক। সময়ের আগে এসেও যদি বলেন দেরী হয়ে গেছে তাহলে কিছু বলার নাই!

১২ টা থেকে টানা ১ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ডাকা ডাকির পরে গেইটে আসলেন ভদ্র মহিলা!

৫ থেকে ১০ হাত একটু জায়গা যদি আপনাদের আনতে ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে তাহলে আমি প্রবাসীর কিছুই বলার নেই!

বললাম মেডাম আমাদের ভূলের মাশুল এখন কিভাবে দিতে হবে? উনি বললেন বিকাল ঠিক ৪ টার সময় আবার আসুন।
যান ঘুরে আসুন একটু পরে আসবেন ৪ টায়,বললাম কি আর করার আপনাদের কাছে নিরহ প্রবাসীরা আজ জিম্মি আপনাদের মতো করে চলতে হবে আমাদের। দূতাবাসের আশপাশে ঘুরাঘুরি করে আসলাম ঠিক ৩:৫৫ মিনিটের মধ্যে যাতে আবার যেন দেরি না হয়,ভাবছিলাম সময় আর কষ্ট যখন করেছি তাইলে রিসিটটা নিয়েই যাই বার বার আসা যাওয়া খরচ সাথে প্রচন্ড গরম আবহাওয়া। যাই হউক গেলাম গেইটে ঠিক ৪ টার সময়।
এখনও সেই আগের মতো গেইট লক গেইটে কেউ নেই। অনেক ডাকাডাকি আবার করলাম কেউ পাত্তা দেয় না।হবে কি হবে না?দিবে কি দিবে না?একটা সুপরামর্শ অন্তত পাবো।করনীয় কি তা তো বলে দিবেন?

চিন্তা করতে করতে হাতের মোবাইল ফোন বের করে লাইভ ভিডিও করতে লাগলাম হঠাৎ ভিডিও করবেন না ভাই প্লিজ করে চেচিয়ে আসলেন এক ব্যাক্তি বললেন আমরা তো সার্ভিস দিচ্ছি। ভাই আপনি কেন ভিডিও করেন এটা দুতাবাস এখানে আপনি কেনো ভিডিও করবেন?

তারপর উনি বললেন ভাই আপনাকে রি-শিডিউল নিতে হবে মুজিব ১০০ app এর মাধ্যমে আপনাকে আবার এসএমএস করে জানানো হবে কবে কয়টায় আবার আসতে হবে এবং রিসিট নিতে হবে।

এখন আমার প্রশ্ন হলো এই একটা কথা ১ টা ১৫ মিনিটে বলে দিলেই তো হয় ৪ টা পর্যন্ত কেনো অপেক্ষা করালেন?

করোনা মহামারিতে আমারা প্রবাসীদের কি কোনো মুল্য নেই?আমাদের সময়ের মুল্য নেই? আমরা বাহিরে রাস্তায় পার্কে সময় কাটাতে হইছে আমাদের কি কোনো করোনার ভয় নেই?
এই ধরনের হয়রানি থেকে চিরতরে কিভাবে প্রবাসীরা মুক্তি পাবে? জাতির কাছে আমার প্রশ্ন।

একজন মানুষের সময়, টাকা পয়সা খরচ করে দূতাবাসের বারান্দায় আসল তাদের উচিত দ্রুত সময়ে সার্ভিস এবং সুপরামর্শ দিয়ে তাদের বিদায় দেওয়া।

পর্তুগালের প্রতিটিটি অফিসে আমাদের মুল্য দেয় কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাসে আমরা প্রবাসীরা মূল্যায়ন পাই না!

আমার মনে হয় বাংলাদেশের স্হপতি স্বাধীনতার জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে যেতেও এতো প্রটোকল ম্যান্টেইন করতে হয় না। বাংলাদেশ এম্বেসী পর্তুগালে যতো যতো রোল মেনে যেতে হয়!

দূতাবাস সকল প্রবাসীদের সেবা প্রদান করবে।প্রবাসে দেশের নাগরিকরা যাতে দ্রুত সময়ে সকল প্রকার সার্ভিস পায় তা নিশ্চিত করবে আর এটাই ছিলো নিয়ম!

কিন্তু সেখনে উল্ট চিত্র তাদের সার্ভিসের মান চরম ধীরগতির! তাদের ধীরগতি সেবার জন্যে প্রবাসীরা আজ দিনদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমনকি তাদের অফিসিয়াল নাম্বারে কল /এসএমএস/ ইমেইল করলে তাদের সাড়া জবাব পাওয়া এযেনো ভাগ্যের ব্যাপার!

অনেক সময় জরুরী ডকুমেন্ট গুলো সময় মতো ডেলিভারী না দেওয়ায় সেখানের রেসিডেন্সী পেতে অনেক ভোগপোহাতে হচ্ছে প্রবাসীদের।

উন্নত দেশে এসেও মনে হয় যেনো সেই এনালক সিস্টেমে ডুবে আছে দূতাবাস! কবে তাদের এ ঘুম ভাঙ্গবে?

আশা করি বিষয়টির ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের সুদৃষ্টি পড়বে। এবং পরর্বতিতে প্রবাসীরা যাতে আর হয়রানীর শিকার না হয় সেই ব্যাপারে যথাযথা প্রদেক্ষেপ গ্রহণ করবেন।