ঢাকামঙ্গলবার , ২৬ মে ২০২০
  1. International
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উৎসব
  6. খেলাধুলা
  7. চাকুরী
  8. জাতীয়
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম
  11. পরামর্শ
  12. প্রবাস
  13. ফরিদপুর
  14. বিনোদন
  15. বিয়ানীবাজার

করোনায় মৃতদের দাফনে সুনামগঞ্জের “তাকওয়া ফাউন্ডেশন” এর অনন্য উদ্যোগ

Link Copied!

আপন পাঁচ ভাই মিলে করোনায় মৃত ব্যক্তির জানাযা এবং কাফনের ব্যবস্থা করবেন

তারা আপন পাঁচ ভাই।সবাই হাফেজ ও মাওলানা।দেশব্যাপী আলোচিত ও প্রশংসিত তাকওয়া ফাউন্ডেশনের দাফন কাফনের স্বেচ্ছাসেবক টিমে তারা নাম লিখিয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলার কোথাও কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষ তাঁরা দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য এগিয়ে আসবেন।

ইতিমধ্যে আমরা পত্র-পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অসংখ্য খবর দেখেছি করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ দেখা দিলে কাছেও কেউ যাচ্ছে না। আত্মীয়স্বজনও ফিরিয়ে নিচ্ছে মুখ। সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন-কাফনের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। তবে করোনা উপসর্গ কিংবা স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে মারা গেলেও এখন মানুষ আতঙ্কে লাশের কাছে ঘেঁষছে না।রক্তের আত্মীয়রাও দাফন কাফনে এগিয়ে আসছেন না।মা-বাবার দাফনে সন্তানরাও পর্যন্ত আসছেন না।গ্রামের কবরস্থানে দাফনে পর্যন্ত বাধা প্রদান করা হয়েছে।লাশ দুদিন ঘরে পড়ে থাকার খবরও আমরা শুনেছি!তারপর এই তাকওয়া ফাউন্ডেশনসহ আলেম স্বেচ্ছাসেবকদের টিমের সদস্যরা গিয়ে দাফন করে এসেছেন।

এমতাবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলার, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামের আপন পাঁচ ভাই পুরো সুনামগঞ্জ জেলায় দাফন কাফনের জন্য তাকওয়া ফাউন্ডেশনের দাফন কাফনের স্বেচ্ছাসেবক টিমে নাম লিখিয়েছেন।
তারা হলেন,
১. হাফিজ মাওলানা মিছবাহ উদ্দিন
২. হাফিজ মাওলানা হাম্মাদ আহমাদ
৩. হাফিজ মাওলানা ত্বাহা হোসাইন
৪. হাফিজ মাওলানা খিজির আহমাদ
৫. হাফিজ মাওলানা সারওয়ার আহমাদ

তারা অপরিচিত কেউ নন!বৃহত্তর সিলেটের সুপরিচিত আলেমে দ্বীন, আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম বাংলাদেশের মহাসচিব,কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহ-সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সাবেক সভাপতি, সুনামগঞ্জ মাদানিয়া মাদরাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা আব্দুল বছির সাহেবের সুযোগ্য সন্তান তারা।

এ বিষয়ে কথা বলছিলাম স্বেচ্ছাসেবক টিমের অন্যতম সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি হাফিজ মাওলানা ত্বাহা হুসাইনের সাথে। তিনি বলছিলেন,
দ্বীনি এবং সামাজিক কাজে স্বাভাবিকভাবেই সুযোগ হলে আমরা পারিবারিকভাবে অংশগ্রহণ করে থাকি। সে হিসেবে করোনা দূর্যোগে সাধ্যানুযায়ী মানুষের পাশে থাকাটা দ্বীন ও সমাজের দাবী। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনায় দুটি বিষয় আমাদের অন্তরে রেখাপাত করেছি। ১ মানবিকতার পরম দৃষ্টান্ত এবং মানুষত্যহীনতার চরম অবক্ষয়।
একদল মানবিক মানুষ পরিবার-পরিজন রেখে মৃত্যুভয় জয় করে পরিচিত-অপরিচিত করোনায় মৃতদের দাফন কাফন করছে আর অসহায়দের সাধ্যানুযায়ী ত্রান সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আর এক শ্রেণীর মানুষের অমানবিকতা পশুত্বকে হারা মানাচ্ছে। মৃত মা-বাবা, ভাই-বোন আত্মীয়স্বজনের লাশ নিতে অপারগতা দেখাচ্ছে এমনকি করোনা সন্দেহে জীবিত মা-বাবাকে জঙ্গলে ফেলে আসছে। আমাদের সুনামগঞ্জেই ঘটেছে মসজিদের মৃতকে দাফনের জন্য মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে না দেয়ার মত অমানবিক ঘটনা। কঠিন এ পরিস্থিতিতে আমাদেরকে অবশ্যই মানবিকতার পরিচয় দিতে হবে যেহেতু আমরা হামিলে কুরআন। ইসলামের আদর্শই হলো দূর্যোগ-মহামারীতে মানবিকতার পরিচয় দেওয়া, অসহায়ের পাশে। সে দিক বিবেচনায় আমরা পাচ ভাই এ কাজের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। এ শিক্ষাই পেয়েছি আমরা পরিবার এবং মাদ্রাসা থেকে।

তাদের ভাষ্যমতে, “সুনামগঞ্জ জেলায় যদি কোন নর-নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন, আমাদের “ব্রাদার্স টীমকে” খবর দিন, আমরা তার জানাযার নামাজ ও দাফনের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ”

সুনামগঞ্জ জেলায় দাফন-কাফনের জন যোগাযোগ –
01773883588(হাফিজ ত্বাহা হুসাইন)
01715860712(হাফিজ হাম্মাদlogo doinik dak bangla